শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
মো. সুজন মোল্লা,বানারীপাড়া:
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার গত পাঁচ বছরের শান্তির জনপদ চাখার ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের চাবি বিএনপির নেতার কাছে কেন জানতে চাওয়ায় মারধরের শিকার হয়েছেন চাখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান মিলন। সরেজমিনে জানা যায় ১৯ জুলাই সোমবার বিকালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বসে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. মালেক হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান মিলন ওই ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুর কাছে দলীয় কার্যালয়ের চাবি চান। টুকু জনৈক আলমগীরের কাছ থেকে তাদের চাবি নিতে বলেন। তখন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান মিলন দলীয় কার্যালয়ের চাবি কেন বিএনপি নেতা আলমগীরের কাছে রাখা হয়েছে তা টুকুর কাছে জানতে চান। এনিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে টুকুর সমর্থক কালাম, তার ছেলে কথিত ছাত্রলীগ নামধারী তানভির আহম্মেদ রনি ও রিয়াজসহ কয়েকজন মিলনকে মারধর করে। এদিকে স্থানীয়রা জানান, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান এক সময় ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতি করতেন। তাই পুরনো সেই স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেননি তিনি। প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন চলাকালীন সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক হাওলাদারের কাছ থেকে দলীয় কার্যালয়ের চাবি নিয়ে, নির্বাচিত হবার পরে বিএনপি নেতার কাছে চাবি রাখেন নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়া সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু। পরে স্থানীয়রা গুরতর আহত অবস্থায় ওয়াহেদুজ্জামান মিলনকে উদ্ধার করে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এদিকে মিলনের ওপর হামলার ঘটনায় তার সমর্থকরা চাখারে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকলে। খবর পেয়ে সংঘর্ষ এড়াতে বানারীপাড়া থানা পুলিশ দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাখারে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোন সময় দু’পক্ষের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ব্যপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসারত চাখার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান মিলন বলেন, দলীয় কার্যালয়ের চাবি চাওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুর নেতৃত্বে চিহিৃত সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাখারের ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের চাবি আলমগীরের কাছ থেকে নিতে বলা নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে কালামকে ধাক্কা ও ঘুষি দেওয়ায় সে ও তার ছেলে রনি আওয়ামী লীগ নেতা মিলনকেও কিলঘুষি দেয়। যা তাৎক্ষনিক মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চাখারের সদ্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান মিলনের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। প্রসঙ্গত সদ্য অনুষ্ঠিত চাখার ইউপি নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদুজ্জামান মিলন। নির্বাচনের শেষ মুহুর্তে দলীয় প্রার্থী সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকুকে সমর্থন দিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি মিলনের ওপরে চাপ প্রয়োগ করলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও দু’জনের সাংগঠনিক মনের মিল ভিন্ন মেরুর হওয়ায় বাস্তবতা অন্যদিকে টান করছে বলে চাখারের স্থানীয় মূল ধারার আওয়ামী লীগ,সহযোগী ও ভ্রাতীপ্রতিম সংগঠনের অনেক নেতৃবৃন্দরা জানান। অপরদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাখারে উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছেন।